বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম ৫০% বৃদ্ধির আসল কারন কি?

 বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম ৫০% বৃদ্ধির আসল কারন কি?

গত কিছুদিন ধরে সবচেয়ে আলোচনার বিষয় হচ্ছে জ্বালানিতের দাম ৫০% বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানি তেল এমন একটি খনিজ সম্পদ যার পর নির্ভর করে বর্তমানে সব কিছু।এক দিক থেকে বলা চলে এই জ্বালানি তেলের দামের উপর নির্ভর করে একজন মানুষের জীবন যাত্রার মান কেমন হবে। 

যেখানে বিশ্ব বাজারে জ্বালামি তেলের দাম কমেছে সেদিকে বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের দাম ৫০% বৃদ্দি পেয়েছে।

তেলের দাম 

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির অতীতের দিকে যদি খেয়াল করা হয় তাহলে দেখা যাবে ২০০৯ সাল থেকে ২০২২ সালের মধ্যে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ৯ বার।  অন্য কোনো কিসুর দাম এত বৃদ্ধি পায় নি যতটা বৃদ্ধি পেয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। বাংলাদেশে জ্বালানি তেল চাহিদার তুলনায় খুবই কম উৎপাদন হয়। চাহিদা মেটানোর জন্য অন্য দেশ থেকে আমদানি করতে হয়। জ্বালানি তেল কোনো তেল হিসেবে আমদানি করা হয় না।



আমদানি করা হয় এক্তা মেটেরিয়াল হিসেবে এবং তা রিফাইন করে তৈরি করা হয় জ্বালানি তেল।আর বাংলাদেশে একটি কোম্পানি তেল রিফাইন করে ।ইস্টার্ণ রিফাইনারী লিমিটেড।১০০% সরকারি মালিকানায় একটা রিফাইনারি সেন্টার। ১৭কোটি মানুষের চাহিদা পূরনের জন্য বাংলাদেশে আছে মাত্র একটি রিফাইনারি সেন্টার।অন্যদিকে পাকিস্থানের আছে ৫টা রিফাইনারি সেন্টার এবং ভারতের আছে ২৩টা রিফাইনারি সেন্টার। 


ইস্টার্ণ রিফাইনারী কোম্পানি রিফাইন করার পর তেল গুলো বাজারজাত করে মূলত পদ্মা, মেঘনা, এবং যমুনা কোমাপ্নির মত কোম্পানি গুলো। এর বাইরেও কিছু লুব্রিকেন্টস কোম্পানি আছে যেমন ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস লিমিটেড । বাংলাদেশের বাজারের তেলের আমদানির পুরো কাজতা এইসব কোম্পানি গুলো করে থাকে। এই কোম্পানি গুলো যে জ্বালানি তেল আমদানি করে তার দাম থাকে মুলত বিশ্ব বাজারে যে দাম থাকে ঠিক সেই দাম। বর্তমানে ৯৩ডলারে ১বেরেল তেলের দাম রয়েছে বিশ্ব বাজারে।এর পর রিফাইন করতে কিছু টাকা খরচ হইয়ে যায়।তারপরে যুক্ত হয় ভ্যাট, ট্যাক্স,সার্ভিস চার্জএইসব খরচ যোগ করার পর প্রতি লিটারের যে দাম হয় সেটা অনেক বেশি। 


বিশ্ব বাজার থেকে আগের চেয়ে অনেক বেশি দামে জ্বালানি তেল কিনতে হয় বর্তমানে।  যেমন, ৩০০০০ টনের ডিজেল আগে কিনা হতো ১৭ মিলিয়ন ডলার দিয়ে আর সেই পরিমান তেল কিনতে হয় প্রায় ৩৯মিলিয়ন ডলার।এই জায়গায় খরচের পরিমান অনেক বেশি বেড়ে গেছে।প্রায় ২গুন বেড়ে গেছে। আগে সরকার জ্বালানি খাতে ভুর্তিকি দিতো অনেক টাকা।যার ফলে বিশ্ব বাজারের থেকেও কম দামে  আমরা জ্বালানি তেল পেয়েছি। আর আজকের দিনে তেলের দাম ৫০% বৃদ্ধির কারন হচ্ছে সেই ভুর্তুকি বর্তমানে সরকার আর দিচ্ছে না।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে, হটাৎ করে কেন ভুর্তুকি দেওয়া বাদ দিতে হয়েছে সরকারকে?



বর্তমানে সবাই জানে যে বাংলাদেশ সরকার আইএমএফ এর কাছে ৪.৫বিলিয়ন ডলার লোন চেয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ব ব্যাংক এবং এডিবি এর কাছে ১ বিলিয়ন ১ বিলিয়ন করে মোট ২ বিলিয়ন ডলারের লোন চেয়েছে। এই সব গুলো লোনের পেছনে লোন দাতারসংস্থা  অনেকগুলো শর্ত দেয়।এবং সেই শর্তগুলো পুরন করে না পারলে তারা লোন দেয় না। 

আইএমএফ লোনের সবচেয়ে বড় শর্ত হচ্ছে সকারের অতিরিক্ত খরচের জায়গা গুলো কমিয়ে আনতে হবে। এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনায় অনেক শর্ত দিয়ে দেয় যাতে টাকা আয়ের বড় রাস্তা তৈরি হয়। এবং তারা যে লোন দেবে তা যেন আটকে না যায়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় ব্যয় হচ্ছে জ্বালানি ক্ষেত্রে ভুর্তুকি। যেখান থেকে সকারের কোনো আয় হয় না। আর বাংলাদেশে ব্যাংকের সুদের হার ১০% এর নিচে। যার ফলে সরকারের অর্থ আয়ের রাস্তা সংকুচিত করেছে। যেহেতু আইএমএফ তাদের লোনের অর্থ নিয়ে চিন্তিত তাই তারা অনেক গুলো শর্ত দিয়ে দেয়। আর এই আইএমএফ এর লোন পাওয়ার জন্য সরকার তারাহুরা করে জ্বালানি খাতের ভুর্তুকি দেওয়া বন্ধ করে দেয়। যার ফলে রাতারাতি জ্বালানি তেলের দাম এত বৃদ্ধি পেয়েছে।






No comments

Powered by Blogger.